মফিজুর রহমান মুবিন, মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা।।
ফরিদপুরের মধুখালীতে সরকারের দেওয়া বন্দোবস্তকৃত খাস জমি দখল নিয়ে এক ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা, প্রাণনাশের হুমকি ও বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার মতো লোমহর্ষক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের ৬০ দিনের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালী দখলবাজ চক্র এখন বেপরোয়া। এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নিজ বসতবাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. মাহাবুর শেখ বলেন, “আমি বাংলাদেশ সরকার থেকে মধুখালী উপজেলাধীন ২৮ নং ঘোপঘাট মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৩ নং দাগের ১৫ শতকের মধ্যে ৭.৫০ শতাংশ জমি কবলতি মূলে বন্দোবস্ত পেয়ে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি।” তিনি পূর্ব আড়পাড়া, থানা- মধুখালী, জেলা- ফরিদপুরের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. সামসু শেখ।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, জমি পাওয়ার পর থেকেই একই এলাকার মো. হাসান শেখ (পিতা- জাহাঙ্গীর শেখ) জমি দখলের জন্য বিভিন্ন হুমকি-ধামকি ও উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি নিয়ে মাঝিবাড়ি বাজার কমিটির লোকজন আপস-মীমাংসা করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তার জন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে হাসান শেখ তা অমান্য করে।
এরপর তিনি আইনের আশ্রয় নেন। মধুখালীতে ১২৪/২০২৬ নং ফৌজদারি পিটিশন দায়ের করে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান শেখ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
আদালতের রায় ভুক্তভোগীর পক্ষে যায় এবং হাসান শেখের ওই জমিতে ৬০ দিনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করে হাসান শেখ বাজার সভাপতি সেলিম মোল্যার কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ঘরসহ জমি বিক্রি করে দেন।
এরপর থেকেই শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যে, সেলিম মোল্যার ভাই হান্নান মোল্যা গত ১৮/১০/২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টায় তার বাড়িতে এসে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং শান্তিতে বসবাস করতে দেবে না বলে শাসায়। একই রাতে ১২টার দিকে সেলিম মোল্যা ও হান্নান মোল্যাসহ ৬-৭ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে ভীতি প্রদর্শন করে চলে যায়।
এর জেরে গত ১৯/১০/২৫ তারিখ রাত আড়াইটায় তার বসতঘরে রহস্যজনক আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় তিনি মধুখালী থানায় ৭ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন।
সবচেয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটে গত ১ ও ২ নভেম্বর। ভুক্তভোগী জানান, তার গর্ভবতী মেয়েকে নিয়ে ০১/১১/২০২৬ তারিখে মধুখালী প্রাইভেট হাসপাতালে যান সন্তান প্রসবের জন্য। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার দোকান ও বসতঘরে ডিজেল-পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালায়। ০২/১১/২০২৬ তারিখ বিকাল ২:৩০ টায় তার ভাতিজা ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি ছুটে আসেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেলেও, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই সেলিম মোল্যা গং তাকে ও তার পরিবারকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী মাহাবুর শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি ভূমিহীন, সরকার আমাকে জমি দিয়েছে, আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। তারপরও তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমার বসতঘরে পেট্রল দিয়ে আগুন দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও এই দখলবাজ চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মধুখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
tawhidit.top/