Loading ...
  • Tue, 03 Nov 2026, 01:46 am
আবহাওয়া ব্যানার

কলাপাড়ায় কবিরাজের বিরুদ্ধে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে মামলা

নিত্যকন্ঠ ডেস্ক।। / ৪৩
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

নিত্যকন্ঠ ডেস্ক।।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কবিরাজি চিকিৎসার নামে এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মুসা নামের এক কবিরাজ, তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনীসহ) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় তিনি মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—কলাপাড়া উপজেলার মনসাতলী গ্রামের কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০), তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগম (২৮), গলাচিপা উপজেলার অসিম গাজী (৩৫), কলাপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল গনি মুন্সী (৩৮), চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের রাসেল আকন (৩৮), নাচনাপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ (৫০) ও রমজান গাজী (২৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী তার সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ার নাচনাপাড়ায় আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে ভাড়া থাকত। অন্যদিকে, কিশোরীর বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ বরিশালের রূপাতলী এলাকায় কর্মস্থলে থাকেন এবং মাঝেমধ্যে কলাপাড়ায় আসতেন। ওই কিশোরী তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মেয়ে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কিশোরী শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার নামে তাইজুল নানা কৌশলে কিশোরীকে প্রলুব্ধ করেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগও করা হয়েছে। একপর্যায়ে কিশোরী ও তার মা তাইজুল এবং অসিমকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা ভিডিওগুলো মুঠোফোন থেকে পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে কিশোরী ও তার মাকে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যথায় ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “আমি কলাপাড়ায় ছিলাম। ব্যক্তিগত কাজে এখন দূরে আছি। আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা হবে।” এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/