Loading ...
  • Sun, 17 মে 2026, 08:55 am
আবহাওয়া ব্যানার

কলাপাড়ায় কুরবানির হাট কাঁপাবে ভয়ংকর ও বাদশা বাবু দাম হাঁকা হয়েছ ১৬ ও ১৮ লাখ

কলাপাড়া প্রতিনিধি। / ৩৯৬
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের নিজ শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় নজর কাড়ছে বিশাল আকৃতির দুটি কোরবানির গরু।

খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদারের খামারে লালন-পালন করা ‘ভয়ংকর’ ও ‘বাদশা বাবু’ নামের গরু দুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ, কৌতূহলী দর্শনার্থী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা। গরু দুটির মোট দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিজিয়ান জাতের ‘ভয়ংকর’-এর ওজন প্রায় ১৮ মণ। এর দাম চাওয়া হচ্ছে ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, শাহিওয়াল জাতের ‘বাদশা বাবু’-এর ওজন প্রায় ১৭ মণ। গরুটি বিক্রির জন্য দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। প্রায় চার বছর ধরে অত্যন্ত যত্ন ও ভালোবাসায় গরু দুটি লালন-পালন করা হয়েছে। গরু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি।

খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, ‘গরু দুটি আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। শুরু থেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে লালন করেছি। ভুট্টার সাইলেজ, কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও রুচিবর্ধক খাবার খাওয়ানো হয়েছে। চার বছরে গরু দুটির পেছনে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু দুটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। যারা স্বাস্থ্যসম্মত ও সুন্দর গরু খুঁজছেন, তারা সরাসরি খামারে এসে দেখতে পারবেন।’

গরু দুটির দেখাশোনায় নিয়োজিত কর্মচারী সোলেমান খান বলেন, ‘দিন-রাত পরিশ্রম করে গরু দুটি বড় করেছি। নিয়মিত গোসল, পরিচর্যা ও খাবারের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হয়েছে। আশা করছি ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হবে।’

স্থানীয় প্রতিবেশী হাবিব সরদার বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এত বড় ও সুন্দর গরু সচরাচর দেখা যায় না। ইব্রাহিম অনেক কষ্ট করে গরু দুটি বড় করেছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এগুলো দেখতে আসছে।’

স্থানীয় যুবক মো. সাকিব বলেন, ‘গরু দুটির সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য দেখে সবাই মুগ্ধ। বিশেষ করে ‘ভয়ংকর’ দেখতে অনেক আকর্ষণীয় ও রাজকীয়।’

আরেক প্রতিবেশী মো. সিয়াম বলেন, ‘গরু দুটি সত্যিই অসাধারণ। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি হবে এবং খামারি তার পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন।’

গরু দুটির নিয়মিত তদারকিতে থাকা স্থানীয় পশু চিকিৎসক আহসান হাবিব বলেন, ‘আমি নিয়মিত গরু দুটি পর্যবেক্ষণ করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এগুলো বড় করা হয়েছে। গরুগুলো শতভাগ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান। এদের শারীরিক গঠনও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।’

খামারি ইব্রাহিম হাওলাদার আশা করছেন, কুরবানির ঈদে গরু দুটি ভালো দামে বিক্রি করে তিনি তার দীর্ঘ চার বছরের শ্রমের সার্থকতা খুঁজে পাবেন।

আগ্রহী ক্রেতারা সরাসরি খামারে এসে গরু দুটি দেখতে ও দরদাম করতে পারবেন। যোগাযোগ: 01775-626048।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/