বুলবুল আহমেদ বুলু, নওগাঁ প্রতিনিধি।।
নওগাঁর মহাদেবপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভাঙারি মালামাল বিক্রির ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মুন্না (২৪), পিতা সিরাজুল ইসলাম, গ্রাম রামচন্দ্রপুর, মহাদেবপুর, নওগাঁ; রবিন (২৫), পিতা মৃত ইয়াদ আলী, গ্রাম ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর, মহাদেবপুর, নওগাঁ এবং সোহেল রানা (২৫), পিতা আমজাদ হোসেন, গ্রাম ডিম জাওন, মহাদেবপুর, নওগাঁ। সোহেল রানা পিকআপের চালক ছিলেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিম (৩৪) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি মহাদেবপুর সরকারি গোডাউনের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পিকআপে করে বগুড়ায় লোহালক্কড় ও ভাঙারি মালামাল বিক্রি শেষে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন চালক সোহেল রানা ও ম্যানেজার মজনু মিয়া।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে পিকআপটি মহাদেবপুর উত্তর গ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশের একটি নির্জন সড়কে পৌঁছালে সেটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা চালক সোহেল রানা ও ম্যানেজার মজনু মিয়াকে মারধর করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি জানার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে ডিবি ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রথমে রামচন্দ্রপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে মুন্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহাদেবপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় পিকআপচালক সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশের দাবি, সোহেল রানা ও মুন্না ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন এবং রবিন এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই তাঁরা এ ঘটনার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন অনুযায়ী কঠোর হাতে এসব অপরাধ দমন করা হবে।”
দ্রুত সময়ের মধ্যে ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন, তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় জেলা পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
tawhidit.top/