কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ চেষ্টা মামলা আপোষ করতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন বড় বোন। এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভাইকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি পাওনা টাকা না দেওয়া, এবং ইয়াবা কান্ডে জড়িত মেয়ে জামাতার পরামর্শে মামাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ন্যাক্কারজনক অভিযোগ তুলেছেন ৪৬ বছর বয়সী বড় বোন। তাই সুষ্ঠ তদন্তের জন্য থানা চত্বর সহ বিভিন্ন স্থানেই জড়ো হয়ে জোড়ালো প্রতিবাদ করছেন স্থানীয়রা।
গত ৩১ মে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত কাজ করতে গিয়ে কলাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকার এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় ইলেকট্রিশিয়ান ফোরকান হাওলাদার। এমন অভিযোগে তাকে আঁটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফোরকানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ইলেকট্রিশিয়ানকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন।
তবে এ ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাজানো ষড়যন্ত্র বলে স্থানীয় সহ আটক ব্যক্তির পরিবার দাবি করছেন। ফোরকানের স্ত্রী রেহেনার অভিযোগ, ফোন করে ডেকে নিয়ে কোন কিছু না বলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতুড়ি সহ লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তার স্বামীকে আহত করে তার ননদ বাড়ির লোকজন। তিনি বলেন, অভিযোগ কারি ননদ তার স্বামীর চেয়ে বয়সে অন্তত ১৩ বছরের বড়।
বেশ কিছুদিন আগে তার ননদ পরিবার ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় তার স্বামী ফোরকানের কাছ থেকে। পরে ইলেকট্রনিকস বিভিন্ন মালমাল নিয়ে আরও ২৫ হাজার টাকা দেনা করে। কিন্তু এসব টাকা ফেরত চাইলেই বিভিন্ন সময়ে তালবাহানা শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে ননদের মেয়ে জামাতাকে ইয়াবা কান্ডে ধরিয়ে দেয় আমার স্বামী। এর পরই ওই পরিবার কৌশলে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দিয়ে এখন উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করছে।
আটক ফোরকানের ছোট ভাই কালাম জানান, ৫ ওয়াক্ত নামাজি একজন মানুষকে ডেকে নিয়ে অহেতুক মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল। মূলত টাকা না দেওয়া আর জামাইয়ের শোধ নিতে তার শাশুড়ী মান সম্মান হারানোর জন্য জঘন্য এই অপবাদ দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার ভাইয়ে ডেকে নেওয়ার আগেই ইয়াবা কান্ডে জড়িত আমার বোনের মেয়ে জামাতা ৭/৮ জনের একটি দল নিয়ে সে বাসায় উপস্থিত ছিল। তারা আগে থেকে ঘরে লোকজন রেখেই ফোরকান ভাইকে ফোন করে ডেকে নিয়েছে। এখন টাকা দেওয়া তো দূরে থাক উল্টো ১০ লাখে মামলা তুলে নিতে চায়।
স্থানীয় গৃহবধূ জেসমিন বলেন, ফকু বিশ্বাসের পরিবার বিভিন্ন দুইনম্বরি কাজের সঙ্গে জড়িত। তার স্ত্রী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে শুধু নয় এর আগেও বহু ঘটনা ঘটিয়েছে। এরা মাদক কারবারি সহ লোকজন ডেকে নিয়ে অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতানোই তাদের ব্যবসা। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত সহ মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।
স্থানীয় শের আলী,রশনা বেগম, শাহিনা,জেসমিন বেগম সহ অর্ধশত মানুষের অভিযোগ, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ আর পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য কৌশলে একজন নম্র ভদ্র নামাজি মানুষকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণের বিষয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে অভিযোগ কারীরা।
অপরদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফকরুল বলেন, আমি ভাইবোনের বিষয় শুনে ওই নারীর স্বামীকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর ফোন দিয়ে তিনি আমাকে সরাসরি বলেন ১০ লাখ টাকা দিলেই মামলা তুলে নিবে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বিষয়টা ষড়যন্ত্রমূলক। এর নেপথ্যে অনেক লেনদেন গত কারণ রয়েছে।
এবিষয়ে অভিযোগকারী নারীর স্বামী ফকু বিশ্বাস কালবেলাকে বলেন, আমরা কোন টাকা চাইনি, অন্য একজন এ কথা বলেছিল। আর কোন ঘটনা মিথ্যা না। এছাড়া তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা দাবী করে জানান একতরফা কি জানতে চান। উল্টাপাল্টা কিছু লেইখেন না।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা সুষ্ঠভাবে তদন্তের জন্য আর কিছু বলতে পারব না। সঠিক বিষয়টা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে।
tawhidit.top/