কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন আলিপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচিত সহ-সভাপতি মোঃ মহিবুল্লাহ মুসুল্লীর পদত্যাগকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ‘অসুস্থতা’র কারণ দেখালেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি মূলত কমিটির অকার্যকারিতা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার নৈতিক দায় থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, গত বছর অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনে মহিবুল্লাহ মুসুল্লী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তিনি পেয়েছিলেন ৪৬৪ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ২২১ ভোট। ২৪৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভের পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত এই নেতার প্রতি সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।
তবে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে বাজারের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। নির্বাচনের সময় বাজারের অন্যতম প্রধান সমস্যা চৌরাস্তায় ও কলেজ রোড বিশৃঙ্খল অটোভ্যান পার্কিং বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দু-একটি সামাজিক সালিশ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মহিবুল্লাহ মুসুল্লী একজন নীতিবান ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করেন এবং একটি মাদ্রাসা পরিচালনার সাথেও জড়িত। একজন আদর্শিক মানুষ হিসেবে কমিটির স্থবিরতা ও প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা তাকে ভেতরে ভেতরে কষ্ট দিচ্ছিল। ব্যবসায়ীদের অনেকে মনে করছেন, অসুস্থতা কেবল আনুষ্ঠানিক কারণ; বাস্তবে তিনি সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দিচ্ছেন। মূলত কমিটির ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই ঠিক ছয় মাস পূর্তির মাথায় গত ১২ মে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন ব্যবসায়ীদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যদি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, তাদের কল্যাণে কার্যকর কিছুই করতে না পারি, তাহলে সেই পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। নীতিহীনভাবে পদ আঁকড়ে থাকার মানুষ তিনি নন।
এ বিষয়ে মহিবুল্লাহ মুসুল্লী পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বরাবরের মতো অসুস্থতার কারণই উল্লেখ করেছেন। তবে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আলোচনার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা পদত্যাগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এটি অসুস্থতাজনিত পদত্যাগ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিকে আমরা আপাতত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছি।
tawhidit.top/