Loading ...
  • Tue, 28 Jul 2026, 11:45 pm
আবহাওয়া ব্যানার

ঘূর্ণিঝড়ের খবরে কলাপাড়ার কৃষকরা চিন্তিত, রবি শস্যের ক্ষেত ঢেঁকে রক্ষার চেষ্টা।

নিউজ রুম / ১৩৪
সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৩

নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) কলাপাড়া পটুয়াখালী।।

ঘূর্ণিঝড় হামুনের খবরে চিন্তিত উপকূলের কৃষকরা। স্বপ্ন ভঙ্গের আশংকায় কপালে ভাজ পরেছে তাদের। প্রবল বর্ষনে যাতে রবিশস্যের ক্ষেত নষ্ট না হয় তার জন্য ঢেঁকে দিচ্ছেন পলিথিন,
কলাপাতা ও খ্যার দিয়ে। লাভ না হোক মুলধন  রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টায় ব্যাস্ত তারা।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন সবজীর ক্ষেত ঘূরে দেখা যায়,প্রায় প্রতিটি চাষী তার ক্ষেত রবিশস্য চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন। কেউ চাষ দিয়েছেন,কেউ নিরানি দিয়ে পরিষ্কার করছেন, কেউ লালশাক,পালংশাক বীজ বপন করেছেন। কারও লালশাক ও পালংশাক সামান্য বড় হয়েছে। যা বিক্রি যোগ্য হতে আরও ৮/১০ দিন সময় লাগবে। আবার কেউ টমোটো চারা লাগিয়েছেন। কেউ লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোন কোন কৃষক ফুলকপি,বাঁধা কপির চারা প্রস্তুতের জন্য ক্ষেত কোপাচ্ছেন। সব কিছু মিলিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে সবজীতে বিখ্যাত নীলগঞ্জ ইউিয়ন  সহ পুরো উপজেলায়।

এই বিশাল আয়োজনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের খবরে কৃষকের চক্ষু চরকগাছ। কি হবে না হবে এটাই তাদের এখন জল্পনা কল্পনা। ক্ষেতে কাজ করছে এমন কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানাযায়,শীতকালীন সবজীর ভালো দাম পেতে হলে চলে চাষের প্রকৃত সময় এখন। অন্যথায় শেষদিকে বীজ বপন বা চারা রোপন করলে ভালো দাম পাওয়া যায় না। তাতে করে লোকশান গুনতে হয় তাদের। তার মধ্যে সার কীটনাশকের চরা মুল্য,শ্রমিকের মজুরী দিয়ে লাভ করা কঠিন।তাই লাভ জনক মুল্য পেতে তারা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন।

নীলগঞ্জের সবজী চাষী আমির মোল্লা বলেন, বর্তমানে মোর লালশাক ও পালংশাক দুই পাতা ছাইড়া মাটি থেকে সামান্য উপরে উঠছে। এখন যদি জোরে বৃষ্টি হয় তবে মোর কপাল পুরছে। আর লাগাইন্না সোমায় নাই। বা লাগাইলেও ভালো দাম পামুনা।

কৃষক আবুল মোল্লা বলেন, চার কেজী লালশাকের বীজ বপন করছি খুব ভালো ফলন হইছে পুরো ক্ষেত আমার লাল চিনায়। কিন্তু বিক্রি করতে আরও ৮/১০ দিন সময় লাগবে। চিন্তায় আছি কি হবে? শুনছি ঘূর্ণিঝড়ে নাকি খুব বিষ্টি হইবে তয় আমার লালশাক আর বেচার সম্ভাবনা কম। কারন এখন বৃষ্টি হইলে সব মাটির সাথে মিশে যাবে । তাইলে আমার নূন্যতম ৫০ হাজার টাকা লচ হইবে। তিনি আরও বলেন,কপির বীজ বপন করার জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করছি তাতে আমার অনেক টাকা গেছে। এখন বৃষ্টি হলে এই ক্ষেত আবার কোপানো লাগবে। তাই নাড়া কুডা আর পলিথিন দিয়া যা ঢাঁকা যায় ঢাকতেছি।

আমন চাষী জিয়ারুল এবং আনুমল্লিকের সাথে কথা বললে তারা বলেন,ধান গলায় গলায় আইছে
এহন ঘূর্ণিঝড়ে পিডান দিলে ধান চিটা হয়ে যাবে। এতে তারা ব্যাপক লোকশানের কথা ভাবছেন।
আবুল,আমির,জিয়ারুল,আনুমল্লিক শুধু নয় তাদের মতো বহু কৃষক এখন চিন্তায় সময় পার করছে।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের এর  তথ্য মতে পশ্চিম মধ্য বঙ্গপোসাগর এবং তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গপোসাগর এলাকায় একটি গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে। এটি আজ (২৩ অক্টোবর ) দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে,কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০ কি.মি.পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০০ কি.মি.দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর
-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।

তাই চট্টগ্রাম,কক্সবাজার,মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০১ (এক) নম্বর নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত (পুনঃ)০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় মাঝারী ধরনের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কাল থেকেই উপকূলীয় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। ধীরে ধীরে এর পরিমান বাড়ছে।  অপরদিকে বাতাসের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কখনও কখনও গুরি গুরি বৃষ্টি হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে একটা ঘূমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এবিষয়ে পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসে কর্মরত আবহাওয়াবিদ মাহবুবা সুখি জানান,গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপনেওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি গভীর নিম্নচাপ আকারেই বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।এর প্রভাবে আগামী দুই দিন উপকূলীয় এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন ২৫ তারিখের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/