কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অতিরিক্ত জোয়ারের নোনা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ফসলি জমি। এতে কৃষি জমি অনাবাদি হওয়ার শংকায় রয়েছে শত শত কৃষক। ইতোমধ্যে লবণ পানি প্রবেশ করায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক কৃষক। জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে বসতবাড়ির আঙ্গিনায়। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। এমন দৃশ্য দেখা গেছে, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিচকাঁটা ভাঙ্গা সুইজ গেট সংলগ্ন গ্রামগুলোতে। তবে, পাশেই নতুন স্লুইসের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অতিদ্রুত স্লুইসটি চালুর দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখাযায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিচকাঁটা সুইজ গেটটি দীর্ঘ বছর ধরে অরক্ষিত ছিলো। বিগত দুই বছর পূর্বে সেখানে একটি নতুন সুইজ গেট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। সেটার কাজ এখন প্রায় শেষের পথে। শুধু মাত্র ব্লক বসালেই শেষ। কিন্তু এর মধ্যেই গতকাল রবিবার (১৭ মে) এবং আজ সোমবার (১৮ ই মে) দুইদফায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানিতে পুরাতন ভাঙ্গা স্লুইজ দিয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এতে শত শত একর জমি অনাবাদি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের মতে, নিঁচকাটা, নবীপুর, টুঙ্গিবাড়িয়া, মজিদপুর, নাওভাঙ্গা ও কুমিরমারাসহ অন্তত দশটি গ্রামের ফসলি জমিসহ কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্লুইস সংলগ্ন বাসিন্দাদের ঘর বাড়ির আঙ্গিনায় পানি প্রবেশ করে জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অতিদ্রুত নতুন স্লুইসটি চালু করার জোর দাবী জানিয়েছেন কৃষকসহ স্থানীয়রা।
কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী, নিচকাঁটা গ্রামের রশিদ মাতুব্বর, মিলন তালুকদার ও মাও. আব্দুর রশিদসহ আরো অনেকে জানান, নিচকাঁটার ভাঙ্গা স্লুইস দিয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে তাদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেক জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। অতিদ্রুত নতুন সুইজ গেটটি চালু করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন তারা।
নতুন স্লুইসের স্থানীয় ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, অতিবৃষ্টির কারনে কাজটি বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। তবে, পানি নিষ্কাশন করে খুব শিঘ্রই নতুন স্লইসটি সচল করার ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
tawhidit.top/