মোঃ শাজনুস শরীফ বরগুনা সংবাদদাতা।।
বরগুনা জেলা শহরে নামে বেনামে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল/ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এদের মধ্যে সিংহ ভাগ প্রতিষ্ঠানের-ই নেই বৈধ কাগজপত্র আবার অনেকের লাইসেন্সের সময় উত্তীর্ণ হলেও মালিকেরা লাইসেন্সের নবায়ন না করেই প্রসাশনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চালাচ্ছে তাদের প্রতিষ্ঠান।
বরগুনা জেলা সদর উপজেলা শহরের বাজার রোডের(কসমেটিক পট্টা)পূর্ব মাথায় সরকারি অনুমতি বা লাইসেন্স না নিয়েই মিনতি ডায়াগনষ্টিক নামে একটি প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চালাচ্ছে, দেবাশীষ কান্তি রায় নামে ব্যাক্তি।
এ বিষয়ে মিনতি ডায়াগনস্টিকের পরিচালক দেবাশীষ কান্তি রায় কে স্বশরীরে না পেয়ে মূঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদকর্মীর সাথে দেখা করে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তার সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তার কোনো সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
বরগুনা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায় বরগুনা সদর উপজেলায় মোটা ৩৭ টি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারি অনুমোদনের জন্য এবং লাইসেন্স নবায়নের অপেক্ষমান রয়েছে, এর মধ্যে ৪টি লাইসেন্স প্রাপ্ত ২২ টি লাইলাইসেন্স নবায়নের জন্য অপেক্ষমাণ এবং ৯ টি নতুন লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনকৃত রয়েছে।
এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানে- ৪টি লাইসেন্সকৃত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০১৯-২০২০ সালের লাইসেন্স দিয়েই দীর্ঘ তিন বছর ও পায়রা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ২০২০-২০২১ লাইসেন্স দিয়ে গত দুই বছর যাবত তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে করেনি লাইসেন্স নবায়নের আবেদনও। আবার লাইসেন্স না পেয়েই নতুন আবেদনকৃত অনেক প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
কীভাবে তারা চালাচ্ছেন সেটা নিয়ে কথা বলতে গেলে সুরক্ষা প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক বিজন কান্তি রায় বলেন- আমাদের সকল কাগজপত্র প্রস্তুত। কিন্তু লাইসেন্সের অনুমতি না পেয়ে কিভাবে পরিচালনা করেন সে ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।
আদম- আম্বিয়া হাসপিটাল এর পরিচালক লাইসেন্স এর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা নতুন ,মানুষ মাত্রই ভুল তবে আমরা আমাদের ভুল টুকু সুধরে নেবার চেষ্টা করবো। আমরা চেষ্টা করছি মানুষের জন্য কিছু করার।
মর্ডান সেন্টাল হসপিটাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালনা পরিষদের একজন বলেন, আমরাই বরগুনায় প্রথম , আপনি সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করুন।
বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নিউ হলি কেয়ার প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব বলেন,আমাদের কাগজ পত্র জমা দেওয়া হয়েছে আমরা খুব শিগগিরই লাইসেন্স পেয়ে যাবো।
ফুলঝুরি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে কোন প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদকৃত অনেক ডায়গনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতাল/ ক্লিনিক এর লাইসেন্সের মেয়াদ গত ২০২০,২০২১ ও ২২ সালে শেষ হলেও লাইসেন্স নবায়ন না করেই ক্লিনিকগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এনিয়ে কথা বললে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালকগন জানায়, তারা তাদের নির্ধারিত সরকারি ফি সহ লাইসেন্স নবায়নের জন্য যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
এ বিষয় বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, বরগুনা সদর উপজেলা বাদে বাকি পাঁচটি উপজেলায় আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি বরগুনা সদর উপজেলা খুব শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। যাদের লাইসেন্স নেই তাঁদের কার্যক্রম অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন সিভিল সার্জন অফিস থেকে লাইসেন্স ব্যতীত কাউকে কোন ধরনে কার্যক্রম চালানোর জন্য অনুমতি দেয়নি, যারা এই ধরনের কথা বলছে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও খুব শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
এছাড়াও বরগুনায় বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিক গুলোতে অদক্ষ নার্স ও বিভিন্ন সময় সেবা প্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
tawhidit.top/