কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। কলাপাড়ায় অতি গুরুত্বপূর্ণ খাল বাঁচাতে নিজের তিনতলা ভবন ভেঙে ফেলে ব্যতিক্রমি নজির গড়েছেন রুস্তম খলিফা নামের এক যুবক। পৌর শহরের রহমতপুর খালের পাড়ে নির্মিত তার বহুতল স্থাপনা ভেঙে এখন প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। সম্প্রতি দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রভাব চলমান থাকায় মসার বংশ বৃদ্ধি বিস্তার লাঘবে এবং খালের জোয়ারভাটা প্রবাহমান রাখতেই ভবন ভাঙ্গেছেন তিনি। এছাড়া দখলদার ব্যক্তিদের নিজ নিজ উদ্যোগে স্থাপনা অপসারণের জন্য উৎসাহিত করতেও তার এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সচেতন এই নাগরিক।
রুস্তম খলিফা বলেন, খালটি বাঁচলে পৌর শহরের মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে। তাই সকল দখলদারদের মহতি কাজের আহবান জানিয়েছেন তিনি।
আমরা কলাপাড়া বাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, রহমতপুর খালটি এ শহরের প্রান। পরিবেশ কর্মী এবং পৌর নাগরিকরা প্রশাসনের নিকট একাধিকবার খালটি দখলমুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে রহমতপুরের বাসিন্দা রস্তুম খলিফা একটি উদাহরন সৃষ্টি করেছেন। তার বহুতল ভবনের কিছু অংশ খালের মধ্যে থাকায় নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে অন্যন্য যারা রয়েছে তাদের স্থাপনা গুলো সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পরিবেশকর্মী এবং কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, কলাপাড়া পৌরশহরে বসবাসের জন্য এ খালটিই একমাত্র ভরসা। খালটি রক্ষা করতে এবং এর সীমানা নির্ধারনের জন্য অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি আমরা। পৌরকর্তৃপক্ষও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একজন সন্মানিত নাগরিক তার বহুতল ভবনের অংশ বিশেষ খালের মধ্যে পড়ায় নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সকল নাগরিকদের কাছে এমনটাই আমাদের কাম্য।
এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন ওই নাগরিক। পৌরবাসীর সকলের কাছে এধরনের সহযোগিতা পেলে খালটিকে আগের রুপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
tawhidit.top/