নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) কলাপাড়া।।
শহর কিংবা গ্রাম, পাড়া কিংবা মহল্লা—যেখানেই অসহায়, দুস্থ কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের দুর্দশার খবর পান, সেখানেই ছুটে যান মানবিক মিন্টু মিয়া। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেই করোনা কালীন সময় থেকে তিনি মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
তাঁর এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ অনেকেই বলেন, সমাজে মিন্টুর মতো মানুষের বড়ই অভাব।
সম্প্রতি মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন মিন্টু মিয়া। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মনের ময়লা পরিষ্কার হলে শরীরেরও ময়লা পরিষ্কার হবে।’ তাঁর এই কথার মধ্য দিয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা ফুটে উঠেছে।
ভবঘুরে মানুষের কাছে কখনো সাধারণ মানুষের বেশে, আবার কখনো ছদ্মবেশে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন মিন্টু। বোঝার চেষ্টা করেন, তাঁদের মনের ভেতরে কোনো কষ্ট কিংবা না বলা গল্প লুকিয়ে আছে কি না। শুধু খোঁজখবর নেওয়াই নয়, তাঁদের চুল কাটা, দাড়ি কামানো, হাত-পায়ের নখ কাটা, গোসল করানো, নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়া এবং ভালো খাবারের ব্যবস্থা করাসহ নানা সেবামূলক কাজ করেন তিনি। অনেক সময় তাঁদের পাশে বসে গল্পও করেন।
নিজের মানবিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মিন্টু মিয়া বলেন, “ভালো কাজে অনেক বাধা আসে। অনেকে বলেন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কিংবা ব্যবসা করার জন্য আমি এমন কাজ করি। তবে ছোটবেলা থেকেই মানুষের প্রতি আমার অন্যরকম একটা টান রয়েছে। মানুষের কষ্ট, দুঃখ ও দুর্দশার চিত্র কেন জানি আমি সহ্য করতে পারি না। তাই চেষ্টা করি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখে একটু ভালো থাকার গল্প খুঁজে নিতে। আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। কে কী বলল, আর কে কী করল, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।”
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ সহযোগিতা আর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই মিন্টুর এই পথচলা। সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যেন নীরবে প্রমাণ করে চলেছেন—মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
tawhidit.top/