Loading ...
  • Sun, 30 Aug 2026, 11:27 am
আবহাওয়া ব্যানার

কলাপাড়ায় ফসলি জমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে

নয়নাভিরাম গাইন নয়ন কলাপাড়া।। / ৬০
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) কলাপাড়া,পটুয়াখালী।।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একসময় খাল, বিল, কিংবা ডোবায় দেশীয় মাছ  শিং, মাগুর, পুঁটি, কৈ,পাবদা, টাকি, শোল, টেংরা চিংড়ি, বাইম, সহ নাম না জানা অসংখ্য মাছের দেখা মিলতো। বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ জনপদের মানুষরা এই মাছ ধরে তাদের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে কেউ কেউ  জীবিকা নির্বাহ করতো। আগেকার দিনে গ্রামীণ জনপদের খালে ও বিলে বৈশাখের নতুন পানিতে উজানতি মাছ শিকার করার এক মহা উৎসব দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে এই সব দেশীয় মাছের দেখা মেলা এখন ভাগ্যের ব্যাপার। এর প্রধান কারন ফসলি জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ। এছাড়াও আরও কারন রয়েছে। আর তা হোল অবৈধ চায়নাদুয়ারী, কারেন্ট ও ভোডা জাল। এই জালের থাবা আর অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগে শুধু পরিপক্ক বয়সের মাছ না তাদের ডিম সহ অন্যান্য জলজ প্রানীও বিলুপ্ত হচ্ছে। যখন জমিতে পোকামাকড় দমনে, সেতারা, কর্ডন প্লাস, নাইট্রো, জি – ফাইভ, ক্লোরসাইরিন, চিতা, সিমলা, নামক কীটনাশকের ব্যবহার শুরু হয়েছে তখন থেকেই নদী নালাখালী বলে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়া শুরু করেছে। আর তা এখন এমন মাত্রায় পৌঁছেছে ফলে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে এখন দূর্লভ বস্তুতে পরিনত হয়েছে। আর এই কিটনাশক এমন মুহুর্তে ব্যবহার হয় যখন দেশীয় মাছের প্রজনন মৌশুম তখন। আমন মৌসুমে কৃষকরা ফসলের রিপু দমনে এসকল ক্ষতিকর  কীটনাশক ব্যবহার করে যা বৃষ্টির পানিতে মিশে গিয়ে শুধু ফসলি জমি নয়  নদী-নালা ও খালে বিলে মিশে পানির জীববৈচিত্র্য নষ্ট করছে, যাতে মাছের প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্য শিকারী আবুল মোল্লা জানান, একসময় এই অঞ্চলের খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন আর সেই মাছের দেখা মেলে না। পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, চিংড়ি, বাইম, বেলে ও গজার মাছের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তি।

কলাপাড়া নাগরিক উদ্যোগ আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, দেশীয় মাছ রক্ষায় সরকারকে পোকা দমনে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহার ও কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি খাল জলাশয় খনন,অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান করার সাথে জেল জরিমানা না করলে কোন ভাবেই দেশীয় মাছ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই তিনি
স্থানীয়রা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের  দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, রাসায়নিক ও কীটনাশকগুলো সরাসরি সরকার অনুমোদন দিয়েছে। আমরা কৃষকদের সব সময়ই বলে থাকি জৈব বালাইনাশক ব্যাবহার করতে। তবে কিছু কিছু পোকা আছে যা জৈব বালাইনাশক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সে ক্ষেত্রে কৃষকদের বলি যত কম মাত্রায় কীটনাশক ব্যাবহার করা যায়। জৈব বালাইনাশক ব্যাবহার করলে মাটি ও মাছের ক্ষতি হয় না।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, দেশীয় মাছ রক্ষা করার জন্য ইতিমধ্যে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ও অবগতি করা হয়েছে। যাতে কৃষি কাজে যে কীটনাশক গুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো যেন আমাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে সে গুলো নিয়ন্ত্রণ করে যেটা পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক আছে সে গুলো ব্যাবহারে জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/