Loading ...
  • Wed, 22 Jul 2026, 03:58 am
আবহাওয়া ব্যানার

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কলাপাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে তরুণদের শপথ গ্রহণ

নয়নাভিরাম গাইন নয়ন কলাপাড়া।। / ৩১৬
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) কলাপাড়া, পটুয়াখালী।।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের দাবিতে কলাপাড়ায় তরুণদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০৬ জুন) সকাল ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন খেলার মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, তরুণ সংগঠক, পরিবেশকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পরে তরুণরা একটা ব্যানারে জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে তাদের ভাবনার কথা লেখেন এবং সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চ, আমরা কলাপাড়াবাসী, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক (JETnet-BD), প্রান্তজন এবং একশনএইড বাংলাদেশ।
এই শপথ অনুষ্ঠানে শপথ পড়িয়েছেন কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য এবং কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রেখেছেন কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব মনোয়ারা বেগম, সদস্য মেঝবাহউদ্দিন মাননু; মোসা: দুলালী; মো: কবির তালুকদার; মোঃ নজরুল ইসলাম; আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাবেক সভাপতি নাজমুস সাকিব; প্রান্তজন এর ফিল্ড কোর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ সহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ। তাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল ও গ্যাস) পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ। এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। পাশাপাশি সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমনের কারণে বায়ুদূষণ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং পরিবেশগত অবক্ষয় বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামোর আশেপাশে বসবাস করে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৮৩% এর বেশি অংশই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর (প্রধানত গ্যাস, তেল ও কয়লা), এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রায় ৯০%–৯৮% পর্যন্ত অংশ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক।
এই উচ্চ নির্ভরতা দেশের কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণরা পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে কাজ করার শপথ গ্রহণ করেন। তারা পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ

tawhidit.top/