পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিশালাকৃতির দুটি কোরাল মাছ। মেসার্স সাগর ফিশের রুহুল মাঝির ফিশিং বোটে এই মাছ দুটি ধরা পড়ে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গভীর সমুদ্র থেকে জাল তোলার সময়ই দেখা মেলে দানবীয় আকৃতির এই কোরাল দুটির।
পরে মাছ দুটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসা হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরিমাপে দেখা যায়, মাছ দুটির মোট ওজন প্রায় ৩৫ কেজি। এর মধ্যে বড় মাছটির ওজন ১৮ কেজিরও বেশি।
বন্দরে বিক্রির জন্য তোলা হলে পাইকারি বাজারে মাছ দুটি নিয়ে শুরু হয় কাড়াকাড়ি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রহমান খান প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকায় মাছ দুটি কিনে নেন। তিনি জানান, আড়তদারি কমিশনসহ তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বড় আকারের হওয়ায় মাছ দুটি ভালো লাভে বিক্রির আশা করছেন তিনি।
ফিশিং বোটের রুহুল মাঝি বলেন, গত কয়েকদিন সাগর খুবই উত্তাল ছিল। তবুও জীবিকার তাগিদে আমরা গভীর সমুদ্রে যাই। অনেকক্ষণ জাল ফেলেও তেমন মাছ পাইনি।
পরে একবারে জাল টানতেই এই বড় দুইটা কোরাল উঠে আসে। এমন মাছ পেলে সব কষ্ট ভুলে যাই।
আরেক জেলে হাশেম আলী বলেন, জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রে যাওয়া এখন খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তবে মাঝে মাঝে এমন বড় মাছ ধরা পড়লে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। এতে আমাদের মধ্যে নতুন করে কাজের উৎসাহ আসে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কোরাল মাছ সামুদ্রিক মূল্যবান প্রজাতির একটি মাছ। গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় আকারের মাছ ধরা পড়া ইতিবাচক দিক। তবে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অবৈধভাবে বা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা না হয়।
তিনি আরও জানান, জেলেদের টেকসই মাছ আহরণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে জেলেদের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমও চালু রয়েছে, যাতে তারা নিরাপদে মাছ আহরণ করতে পারেন এবং জীবিকা সচল রাখতে পারেন।
সাগর উত্তালতার মধ্যেও এমন বড় মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, এই ধরনের খবর অন্য জেলেদের মাঝেও নতুন করে সাহস ও প্রেরণা জোগাচ্ছে।
tawhidit.top/