Loading ...
  • Fri, 16 Jan 2026, 06:57 am
আবহাওয়া ব্যানার

কলাপাড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে মামলা

কলাপাড়া প্রতিনিধি। / ৬৯৮
বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

 

প্রতিনিধি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির সামনের গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা মামলা দায়ের করেছেন।

এজহারে বলা হয়েছে, কলাপাড়ায় ছোট বালিয়াতলীতে গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টায় কিশোরীকে আসামিরা ধর্ষণ শেষে হত্যা করে। মৃত কিশোরীর গলায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যৌনাঙ্গে রক্তাক্ত ক্ষত রয়েছে। বুকে স্পর্শকাতর অঙ্গে ক্ষত রয়েছে। ধর্ষকদের কথা বলে দেওয়ার ভয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলেও মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সময় কিশোরীর মা এক অসুস্থ পড়শিকে দেখতে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরতে দেরি দেখে মেয়ে তাকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হলে আসামিরা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। বাড়ি ফেরার পথে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

১৩ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে মরদেহ চাম্বল গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ওই কিশোরীর মা হালিমা বেগম এমন অভিযোগ এনে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

রাজধানীতে ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধরাজধানীতে ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ
আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত মধ্য রাতে কলাপাড়া থানায় মামলাটি (নং-১৭) রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই এলাকার জয়নাল মৃধা (৩৫), তাইফুর ইসলাম সোহেল (৩০), সুজন (২৫), হাসান (২৫) এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কিশোরীর মা হালিমা বেগম আরও উল্লেখ করেন, তার স্বামী বাহার সিকদার ঢাকায় কাজ করতেন। বাড়িতে থাকতেন না। একমাত্র মেয়ে, এক ছেলে ও তার মাকে নিয়ে ছোটবালিয়াতলী গ্রামের ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। ওই পথে চলাচলের পথে বিভিন্ন সময় বখাটে তাইফুর ইসলাম সোহেল হালিমাকে কুপ্রস্তাব দিত। এতে রাজি না হওয়ায় ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একবার হালিমাকে মারধর করা হয়।

এ নিয়ে মামলা করলে ২০২২ সালের ১৫ অক্টোবর আরো একদফামারধর করা হয়। এখানেই শেষ নয়, এরপর হালিমার স্কুলগামী ওই কিশোরী মেয়েকেও স্কুলে যাওয়া আসার সময় উত্যক্ত করত আসামিরা। স্কুলে যাওয়া বন্ধের উপক্রম হয়। এর প্রতিবাদ করায় মেয়ের বাবা তার স্বামীকেও ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে হালিমা উল্লেখ করেছেন। এরপর কখনো মোবাইলে, কখনো সামনাসামনি আসামিরা কুপ্রস্তাব দিত। প্রচন্ড উত্যক্ত করে আসছিল।

ফরিদপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩ফরিদপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩
হালিমার দাবি, তারা মা-মেয়ে ঘরের বাইরে কিংবা ভেতরে অনিরাপদ হয়ে পড়েন। সবশেষ পালাক্রমে ধর্ষণ করে তার মেয়েকে হত্যা করা হলো।

হালিমা জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ভ্যাজাইনাল সোয়াব, রক্তমাখা জামা-পায়জামা, ওড়না জব্দ করা হয়েছে। ডিএনএ টেস্ট করা হোক। তিনি সঠিক বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি তার নিরাপত্তা দাবি করেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে বিষয়টি এজাহার হিসেবে গণ্য হয়েছে। এ বিষয় ইতোপূর্বে একটি অপমৃত্যুর মামলা রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/