মোঃ শাজনুস শরীফ বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অফিসে বসেই এক কলেজ ছাত্রীকে মারধরের হুমকি দিয়েছেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা। গত শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক বন্ধুকে নিয়ে ইজিবাইকে করে যাচ্ছিলেন ওই কলেজ ছাত্রী। তারা বরগুনা ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে আসতে তাদের গতিরোধ করে করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজার অনুসারী মোঃ রিমন। বিষয়টি নিয়ে বরগুনা ডিবি অফিসে অভিযোগ জানায়।
এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা উভয়পক্ষকে অফিসে ডাকলে,সেখানে ছাত্রলীগ নেতা রেজা উপস্থিত হন। ডিবি অফিসেই ওই কলেজ ছাত্রীকে মারধরের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন রেজা।
পরে এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রী একইদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বরগুনা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে ওই কলেজ ছাত্রী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা (২৭)কে ১ নং বিবাদী এবং মোঃ রিমন ওরফে অন্তু (১৮) কে ২নং বিবাদী করে বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ পত্রে ওই কলেজ ছাত্রী উল্লেখ করেন আমি বরগুনা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়া শুনা করি। ২নং- বিবাদী প্রায়ই সময়ই আমাকে উক্ত্যক্ত সহ কু-প্রস্তাব দিয়া আসছিলো। বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজনদেরকে মৌখিক ভাবে অবহিত করে রাখি। অতঃপর ঘটনার দিন ইং-৩০/০৯/২০২৩ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় বরগুনা ডিবি অফিসের মধ্যে বসে ১নং-বিবাদী ২নং-বিবাদীর পক্ষ নিয়া আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করিতে থাকে। আমি প্রতিবাদ করলে ১নং-বিবাদী আমাকে মারপিটসহ আমার বিভিন্ন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি করবে এই মর্মে ও হুমকি প্রদান করে।
বরগুনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফ বলেন, ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী ডিবি অফিসে এসে মৌখিক ভাবে অভিযোগ জানালে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষকে অফিসে ডাকা হয়। তাদেরকে অফিসে বসতে দিয়ে আমি অভিযানে যাই। এর মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে নাকি কথা কাটাকাটি হয়েছে। তখন আমি ছিলাম না। পরে ভিডিও ডিলিট করিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। মারধরের হুমকির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা’র সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী পাথরঘাটার কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিপুর এলাকার ইরতীজা হোসেনের মেয়ে।
tawhidit.top/