Loading ...
  • Thu, 18 Jun 2026, 08:31 pm
আবহাওয়া ব্যানার

বরগুনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঘলকি কান্ড

নিউজ রুম / ৪০১
সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩

মোঃ শাজনুস শরীফ বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রকার তুঘলকি কান্ডের অভিযোগ উঠেছে। সামান্য কথার জেরে হাতপাতালে ভর্তি, মামলা ও লুটপাট পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার (৩জুন) বেতাগী উপজেলার চান্দখালী বাজারের কাঠপট্টি নামক স্থানে রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানাগেছে, গত ২মে শুক্রবার সন্ধ্যার পরে প্রতিবেশী জনৈক ছাদেমের ছেলে মোশারেফ নতুন অটোগাড়ি কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় দাম জিজ্ঞেস করেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রাজা মিয়া। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে মোশারেফ তার পায়ের পরিহিত জুতো দিয়ে ৩টি পিটান দেয় রাজা মিয়াকে। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। পরের দিন অর্থাৎ ৩জুন রাত ৯টার দিকে জুতো পিটার রেশ ধরে রাজা মিয়া ও মোশারফের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে মোশারেফ মাটিতে লুটিয়ে পরে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ফাড়ির পুলিশ রাজা মিয়াকে আটক করে এবং মোশারেফকে বেহুশ অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। স্বামীর আটকের খবর শুনে বাসার দরজা খোলা রেখেই ফাড়িতে হাজির হয় রাজা মিয়ার স্ত্রী রেহানা বেগম। পরে রাত ১২দিকে লোকমুখে মোশারেফ জ্ঞান না ফেরার খবর শুনে, তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন মোশারেফ খাবার খাচ্ছেন। অপরদিকে রেহানা বেগমকে দেখেই জ্ঞান হারানোর অভিনয় করেন মোশারেফ। সকালে ডাক্তার এসে মোশারেফকে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেন। এদিকে রাজা মিয়ার নামে একটি মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে রেহানা বেগম বাড়িতে এসে তার সুকেজ খোলা অবস্থায় দেখতে পান এবং তাদের সংরক্ষিত ৩ লক্ষ টাকার চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।

রেহানা বেগম বলেন, জনৈক খালেকের মাধ্যমে আমি আমার স্বামীর আটকের খবর শুনে তাৎক্ষণিক আমার বাড়ির দরজা খোলা রেখেই চান্দখালী ফাড়িতে গিয়ে আমার স্বামীকে দেখতে পাই। পরে রাতে মোশারেফের বেহুশ থাকার খবর শুনে ফাড়ি থেকেই রাত ১২টার দিকে মোশারেফকে দেখতে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালে গিয়ে আমি মোশারেফকে বসে বসে খাবার খেতে দেখি। আমি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রেখেছি। কিন্তু মোশারেফ আমাকে দেখা মাত্রই অজ্ঞান হওয়ার নাটক শুরু করে। সারারাত হাসপাতালে থেকে আজকে (৪জুন) দুপুরে চান্দখালী বাজারে এসে শুনতে পাই আমার স্বামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাড়িতে এসে দেখি আমার সুকেজে গরুর ব্যবসার জন্য রাখা ৩লক্ষ টাকা চুরি হয়ে গেছে। আমি মনেকরি আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে জেলে পাঠিয়ে আমার ঘরে রাখা টাকা লুটপাট করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন-অর রশিদ বলেন, প্রথম দিনের ঘটনার বিষয়টি আমি শুনে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে বলি এবং পরবর্তীতে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেই। কিন্তু পরবর্তী দিনের ঘটনার বিষয় আমার জানা নেই। তবে রাজা মিয়াকে আটকের খবর শুনে আমি তাকে ফাড়িতে দেখতে গিয়েছিলাম।

ঘর খোলা রেখে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘরের দুয়ার খোলা জানতে পেরে আমি ও আমার স্থানীয় চৌকিদার দিপু হোসেনকে নিয়ে রাজা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পাই ও সোকেজের দরজা খোলা দেখতে পাই। দিপু হোসেনের মোবাইল ফোনে আমি ছবি করে রেখেছি। তবে কে বা কাহারা ঘরে প্রবেশ করেছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এবিষয়ে চান্দখালী ফাড়ির ইনচার্জ নিরব হোসেন বলেন, মোশারেফের ছেলে বাদি হয়ে রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলায় রাজা মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে মোশারেফের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা অভিযোগখানা এজাহার হিসেবে নিয়ে আসামীকে ধৃত করে আদালতে প্রেরণ করেছি।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/