নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) স্টাফ রিপোর্টার:
বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্নিঝড় “মোখা” সৃষ্টি হয়েছে লঘূচাপ,সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
সোমবার (৮ মে) বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া দফতর থেকে প্রকাশিত আবহাওয়া বিদ বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করাহয় দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গপোসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগর এলাকায় একটি লঘূচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনিভূত হতে পারে। অপর দিকে একই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বে সরকারী ওয়েদার অবজারভেষন টিম (BWOT)। তারা জানিয়েছে, লঘূচাপটি ৮ ই মে দুপুর ১১ টা বেজে ৫৫ মিনিটে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ,দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছিলো। এটি আরও জোরদার হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতেপারে। লঘুচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার এর ভেতরে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ঘন্টায় ২৫ কিলোমিটার যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও ঐ স্থানে সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে।
তবে তারা বলছেন এটি উপযুক্ত পরিবেশ পলে ১০ বা ১১ মের দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোখা তে পরিনত হতেপারে,এবং ইতিমধ্যে এটি শক্তি শালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার যথেষ্ট উপযুক্ত পরিবেশ সেখানে রয়েছে। লঘুচাপটি বাংলাদেশ উপকূল থেকে এখনও অনেক দুরে থাকায় এর কোন প্রভাব এখনও দেশের উপকূলে পড়েনি। তবে আগামী কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে সাগর বেশ উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই কোন মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার যেনো কোনভাবেই গভীর সাগরে না যায় তার জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছে।
তারা এও জানিয়েছে লঘূচাপটি প্রাথমিকভাবে উত্তর পশ্চিম দিকে এবং পরবর্তীতে উত্তর দিকে,তারপর শেষ পর্যায়ে এটি উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোখার শক্তিমত্তা সম্বন্ধে তারা বলছেন বঙ্গপোসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির বেশ উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ক্যাটাগরি ৪/৫ এ পরিনত হতেপারে। ক্যাটাগরী ৪ এর মানে এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ২০৯ থেকে ২৫১ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ক্যাটাগরী ৫ মানে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ শক্তি মত্তা এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ২৫২ কিঃ মিঃ বা এরচেয়ে বেশি। এটি আগামী ১৪ বা ১৫ ই মে ভারতের উড়িষ্যা থেকে বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে এর ভেতরে যেকোনো উপকূলে প্রবল শক্তি নিয়ে আঘাত করতেপারে। তবে এটাকেই চুরান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন না। আঘাত হানার স্থান কিছুটা পরিবর্তনও হতেও পারে। এজন্য আরও অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। দেশের উপকূলীয় জনসাধারণের জন্য তারা বলছেন, সকলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিয়ে রাখবেন। এছাড়াও দেশে যারা ধান কাটছেন তারা ১২ ই মে এর ভেতরে সকল ধান নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিবেন।
tawhidit.top/