মোঃ শাজনুস শরীফ বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় দুর্যোগ অধিদপ্তরের কাবিখা (টাকা) প্রকল্পের কাজ কাগজে কলমে শেষ হলেও মোটেই কাজ না করে বিলের সম্পূর্ণ টাকা তুলে নিয়েছেন সিপিসি। রাস্তাটি মেরামত না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা। বরগুনা সদর উপজেলার ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মরখালী এলকার জনৈক আবু খার বাড়ি থেকে ইউসুফ চৌকিদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির দু পাশে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবারের বসবাস। বিষখালী নদীর কাছাকাছি হওয়ায় প্রায় প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কবলিত হয় রাস্তাটি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ০৫-০৯-২০২১ তারিখের ৫১.০১.০০০০.০১১.১৪.১৯৬.২১.৪০৩ নং স্মারকে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বরগুনা সদর উপজেলার কাবিখা (টাকা) ১ম পর্যায় প্রকল্পে ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মরখালী এলকার জনৈক আবু খার বাড়ি থেকে ইউসুফ চৌকিদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির মেরামতের জন্য দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঠালতলী এলাকার আজিজ মোল্লার ছেলে ও সদর উপজেলার ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান লাভলু মোল্লা প্রকল্পটির সিপিসি মনোনিত হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই মাটির রাস্তাটিতে সংস্কার কাজ না করেই ২১-২২ অর্থ বছরের ২৩-০৬-২২ তারিখ বরগুনা পূবালী ব্যাংকের ২৯৫৪৪৬০ নং চেকে এক লক্ষ ও ওই একই অর্থ বছরের ২৯-০৬-২০২২ তারিখ পূবালী ব্যাংকের ২৯৫৪৪৫৫ নং চেকে একলক্ষ টাকা অর্থাৎ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ দুই লক্ষ টাকা বিল তুলে নিয়েছেন সিপিসি কামরুল আহসান লাভলু মোল্লা। অপরদিকে রাস্তাটির সংস্কার কাজ না হওয়ার কারনে বর্ষার মৌসুমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মরখালী এলাকার বসবাসকারী সাধারণ মানুষ।
ওই এলাকার কয়েকজন নিত্যকন্ঠকে বলেন, বিগত ১০ বছরেও এই রাস্তায় কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে রাস্তাটির উপর দিয়ে পানি আসা যাওয়া করে। কোন অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে কষ্টকর হয়ে পরে।
অভিযুক্ত সিপিসি কামরুল আহসান লাভলু মোল্লা মুঠোফোনে নিজেকে উল্লেখিত রাস্তার সিপিসি স্বীকার করে বলেন, আমরা আর একটা প্রজেক্ট পেয়েছি, সেই প্রজেক্টের সাথে একত্রে কাজ করবো। যখন আমি ওই প্রজেক্টের পাই তখন বর্ষার মৌসুম ছিলো। তাই মাটি কাটতে পারি নাই। কোথাকার কাজ এ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় এমপির কাছ থেকে নিয়েছেন বলে জানান তিনি। বিল তুলে নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বলেন, গত বছরই বিল তুলে নিয়েছি। এ বিষয়ে কামরুল আহসান লাভলু মোল্লার কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি তার কাজের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বলে প্রতিবেদকের সাথে পরে দেখা করার কথা বলেন।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, রাস্তাটির কাজের বিষয় আমার জানা নেই। কাজ হলে আমি জানতাম। রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমি রাস্তাটির সংস্কার কাজের জন্য এমপির কাছে গিয়েছিলাম, গিয়ে কাগজে দেখতে পাই ২১-২২ অর্থ বছরে রাস্তাটির সংস্কার কাজ হয়েছে।
৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আজিজুল হক স্বপন মুঠোফোনে বলেন,আমার জানামতে ওই রাস্তায় কোন কাজ হয় নাই। আমি আসা যাওয়ার সময় ওই রাস্তায় কোনদিন কাজ হইতে দেখি নাই। তবে সকল তথ্য সংগ্রহ করে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
বরগুনা সদর উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের কাছে মুঠোফোনে প্রকল্পটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রকল্পটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়ে প্রকল্পটির তালিকা ওয়ার্ট’স এ্যাপের মাধ্যমে তাকে দিতে বলেন। ওয়ার্ট’স এ্যাপের মাধ্যমে তালিকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরে তাকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হোসেন বলেন, আমি তখন বরগুনায় ছিলাম না। আপনারা নিউজে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার স্বাক্ষাতকার দিয়ে দিন।
tawhidit.top/