আইন বহির্ভূত হওয়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহিষের লড়াই বন্ধ করেদিল উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (০৪ জানুয়ারী) সকাল ৮ টায় উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে লড়াই স্থলে উপস্থিত হয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মারুফবিল্লাহ এ আয়োজন বন্ধকরে দেন। তিনি জানান,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লড়াই হবে এমন খবর দৃষ্টি গোচর হয় প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এরপর তাদের নির্দেশে এ লড়াই বন্ধ করেছেন তিনি।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘লড়াই হবে’ এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তা উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। রবিবার খুব ভোরে লড়াইয়ের জন্য বিশাল দেহের বলি মহিষ দুটি নিয়ে হাজির হন মহিষের মালিক সোহেল মিরা ও মজিবর ফকির। লড়াই না হওয়ায় ক্ষোভ ব্যাক্ত করেন,নীলগঞ্জের ফরিদগঞ্জ গ্রামের জাকারিয়া। তিনি বলেন,আমরা কাজবাজ বন্ধ করে লড়াই দেখতে এসেছি। আইনে এই লড়াই বন্ধ এটা প্রশাসনের প্রচারনা চালানো উচিত। আয়োজন করার পর বন্ধ হওয়ায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। লড়াই না হওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে ফিরে যান জাকারিয়ার মতো অনেক উৎসুক মানুষ। এদের মধ্যে আমতলী উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়ন থেকে আসা সাইয়েদ মিয়া বলেন, আমরা ফেসবুকে দেখেছি যে নীলগঞ্জে মহিষের লড়াই হবে। তাই খুব ভোরে আমরা এটি টমটম নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন এখানে এসেছিলাম। এখানে এসে বিশাল দেহের মহিষ দুটি দেখে বেশ ভালোই লেগেছে। কিন্তু এখানকার প্রশাসন মহিষের লড়াই বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে লড়াই না দেখেই ফিরে যেতে হচ্ছে। চাকামাইয়ক এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান মজিবার ফকিরের মহিষ ও টিয়াখালী ইউনিয়নের সোহেল মিরার মহিষের মধ্যে লড়াই হওয়ার কথা ছিল। খুব ভরি এখানে মহিষ দুটি হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন এসে মহিষের লড়াই বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে আমরা ফিরে যাচ্ছি। মহিষের লড়াইয়ের জন্য আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে আমাদের এভাবে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হতো না।
তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে লড়াইটি বন্ধ করেন বলে জানান,আয়োজক কমিটির সদস্য মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক নাজমুল আলম বাদল মাতব্বর। তিনি বলেন,এধরণের লড়াই বহু জায়গায় হয়। কিন্তু আজকে লড়াইটা প্রশাসন বন্ধ করায় বন্ধ হওয়ায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। কারন এলাকায় মদ গাঁজা জুয়া বহু ঘটনা ঘটে কিন্তু প্রশাসন সেটা বন্ধ করতে পারে না আইনের প্রয়োগ করে না কিন্তু এখানে এসে বন্ধ করে দিল।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ইয়াসিন সাদেক বলেন,প্রানী কল্যাণ আইনের ছয় ধারা অনুসারে, যেকোনো প্রাণীকের লড়াই করার জন্য প্ররোচিত করার বিরুদ্ধে আইনে বিধি নিষেধ রয়েছে। এজন্য কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটা আমরা বন্ধ করে দেই।
tawhidit.top/