Loading ...
  • Sat, 14 Mar 2026, 11:13 pm
আবহাওয়া ব্যানার

এ যেন সিনেমার গল্প; অভিমানেই প্রতিষ্ঠিত বেলাল!

নিউজ রুম / ৩০৮
শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

 

মোঃ রতন পীরগঞ্জ,পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকেঃ

রংপুর: বাবার উপর অভিমান করে পড়ালেখা ছেড়ে ২০০১ সালে ঢাকায় চলে যান রবিউল ইসলাম বেলাল। হাতে টাকা-পয়সাও তেমনটা ছিল না। তখন তিনি নবম শ্রেণিতে পড়তেন। জীবন বাঁচাতে মাত্র সাড়ে ৫’শ টাকা বেতনে গার্মেন্টসের চাকরীতে যোগ দেন। বছরখানেক পর তিনি বাড়ীতে ফিরে আসেন। আবারও লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করেন। এক বছরে তার ক্লাসের সহপাঠীরা দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলেও বেলাল নবম শ্রেণিতেই ভর্তি হন। পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও ক্লাস শুরু করেন। পারিবারিক কারণে এক বছর পড়ার পর তিনি আবারও অভিমান করে বাড়ী থেকে ঢাকায় চলে যান। ফলে ২০০৪ সালে তার ভাগ্যে এসএসসি পাশ জোটেনি। তবে জীবনের পরীক্ষায় তিনি পাশ করেছেন। এখন তিনি গার্মেন্টসের মালিক। মাত্র ৩৯ বছরে গড়েছেন আলীশান জীবন। চাকুরী দিয়েছেন ৫’শ জনকে।

সিনেমার গল্পের মতই নানান চড়াই উতরাই পেরিয়ে জীবনকে প্রতিষ্ঠা করেছেন রবিউল ইসলাম বেলাল। বয়স প্রায় ৩৯ বছর। অভিমানে বাড়ী ছেড়ে গিয়ে ঢাকায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এখন তিনি গার্মেন্টসের মালিক। তার মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সিনিয়া টেক্স লিঃ’। গার্মেন্টসটিতে এখন পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ চাকরি করছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামে বেলালের বাড়ী। তিনি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রতিদিন বিকেলে মুদি দোকান নিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ হাটে দোকান দিতেন। ছোট থেকেই তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি টাকা জমানো, ব্যবসা করা পছন্দ করতেন। তার বাবা আনোয়ারুল ইসলামেরও ব্যবসা ছিল।

বাবার সাথে অভিমান করে ২ বার ঢাকায় যান বেলাল। প্রথম বার ২০০১ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়। বছরখানেক ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরী করেন। লেখাপড়ার জন্য ২০০২ সালে তিনি বাড়ীতে ফিরে আসেন। ভর্তি হন নবম শ্রেণিতে। ক্লাস করলেও ২০০৪ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। কারণ আবারও বাবার সাথে তার অভিমানের পাল্লা ভারী হলে তিনি ২০০৫ সালে বাড়ী ছাড়েন। ওই বছরের জুলাইয়ে তিনি অল্প বয়সেই তার গ্রামেই বিয়ে করেন। তিনি নববধূকে নিয়ে জীবনের লক্ষ্য পুরনে ঢাকায় চলে যান। এরপর গার্মেন্টসে চাকরীতে যোগ দেন।

২০০৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি করেন। এরই মধ্যে তার সংসারে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। নাম রাখেন ‘সিনিয়া’। সিনিয়াকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকার উত্তরায় ‘সিনিয়া টেক্স’ নামে একটি বায়িং হাউজ প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসা চালান। ২০১৭ সালে ৫৫ টি মেশিন কিনে সাভারে শুরু করেন ‘সিনিয়া টেক্স লিঃ’ নামে গার্মেন্টস ব্যবসা। সেখানে এখন ৩০০ টি মেশিন। বর্তমানে গার্মেন্টসটিতে ৫০০ জন নারী-পুরুষ কর্মচারী। তিনি পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ হাটের দক্ষিণে একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন। সেখান থেকেই এলাকায় সমাজসেবা, দান-দক্ষিনা করছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি ১ ছেলে ২ মেয়ের জনক। তিনি তার বাবার একমাত্র ছেলে। এ যেন সিনেমার গল্পের মতো।

বেলালের ব্যাপারে মাদারগঞ্জের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ‘লিটল ষ্টার স্কুল এন্ড কলেজ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ শামসুজ্জোহা মন্ডল বলেন, বেলাল অনেক ষ্ট্রাগল (ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য) করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি এলাকায় অনেক দান-দক্ষিণা করেন। বিশেষ করে মিঠিপুর ইউনিয়নের ধর্মীয়, সামাজিক, অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিগত পর্যায়েও আর্থিক, মানসিক সহযোগিতা করে আসছেন।

রবিউল ইসলাম বেলাল বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে ছোট থেকেই পড়ার পাশাপাশি ব্যবসার দিকে ঝোঁক ছিল। এখন অনেকের কর্মসংস্থান করতে পেরে তৃপ্তি লাগে। পাশাপাশি মানুষের কল্যানে কাজ করতে আমাকে ভাল লাগে। জীবনে যে সংগ্রাম করেছি, সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছি।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/