Loading ...
  • Sun, 15 Mar 2026, 08:03 am
আবহাওয়া ব্যানার

মৎস অফিসের অফিস সহায়কের তেলেসমাতি !

নিউজ রুম / ৯৪
বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪

 

শফিক খান ভোলা সংবাদদাতা।।

মৎস অফিসে সহকারী পদে চাকরি করে নিজেই চালান নিষিদ্ধ জালের সাবার। তাতে একদিকে আয়ের পাল্লা ভারি অপরদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান চালানোর খবর মুহুর্তে পৌছে দিতে পারেন নিজের মাঝিকে।
ভোলা সদর উপজেলা মৎস অফিসে যোগদানের পরই আলাদিনের চেরাগের সন্ধ্যান পান অফিস সহকারী মনির । অফিসে যান এস করোলা গাড়ির আদোলে দৃই চাকার ভাবসাবের গাড়ি নিয়ে।

এক সময় তিনি লক্ষীপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করার স্বপ্ন দেখতেন আকাশ পথে। ভোলায় যোগদানের পরে বরিশাল হয়ে সে স্বপ্নও নাকি তার বাস্তবে পরিনত করেছে। সরকারি নিয়মনিতীর তোয়াক্কা না করে নিতী বহির্ভূতভাবে এই মনির শুধু ভোলার নয় মেহেন্দীগঞ্জের বাহাদুরপুর,চরমহিশা,চরেরহাট, মিরার খাল, উলানিয়া সহ লক্ষীপুর তার নিজ জেলার ঘাটগুলোতে চাঁদার ভাগ বসিয়েছেন। বিভিন্ন মৎস ঘাটে গিয়ে নিজেকে মৎস অফিসার পরিচয় লাগিয়েছেন বলে বেশ অভিযোগ রয়েছে।
চলাফেরা করেন রাজকীয়হালে। অফিসে আসা যাওয়া করেন ইচ্ছামাফিক,তবে তাকে বেশির ভাগ সময় মাছ ঘাটেই দেখা যায়।
মনির মৎস অফিসার পরিচয় দিয়ে কজন বখাটে ছেলেদের নিয়ে স্পিডবোট দিয়ে সাধারণ জেলেদের আটক করে আবার মুক্তি পন নিয়ে ছেড়ে আসার ঘটনাও সে ঘটিয়েছে অনেক।
সম্প্রতি সে বরিশালের সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউনুস ফরাজির পুত্র রফিক ফরাজি বরিশাল থেকে শামরাজ যাবার পথে ভোর ৬ টার দিকে স্পিডবোট দিয়ে আটক করে তাকে । আটকের পরে রফিকের কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করে মনির। রফিক বলে ম্যাজিষ্ট্রেট আসলে আমার অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তি হিসেবে যা করে মেনে নেবো। কিন্তু কিচুতেই তা মানতে নারাজ মনির, মনির তৎক্ষনাৎ ম্যাজিষ্ট্রেটের নাম ভাঙ্গিয়ে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে টাকার জন্য চাপ দিলে রফিক মাঝি তার মহাজনের নিকট হতে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে মনিরকে দেন।
এদিকে অপরাধ বিহীন ম্যাজিষ্ট্রেটকে ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে রফিক এমন দুঃখ প্রকাশ করে ইলিশা নৌ পুলিশের রেজাউল নামে এক সদস্যের নিকট ।
রেজাউল বিষয়টি নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে বেড়িয়ে পড়ে মনিরের অপকর্মের থলের বেড়াল ।
এমন বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মৎস অফিস সহকারী মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করার আদেশ দিলে মনির চাঁদার ৪০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে মুচলেকা দিয়ে আসেন।

তবুও মেঘনার মাছ ঘাটগুলোতে অফিস সহায়ক মনিরের অপকর্মের রেখা ছোট হয়নি।

মেঘনায় মনিরের নিজ মালিকানাধীন একাধিক নিষিদ্ধ জালের সাবারও রয়েছে। এসব পাইজাল, বেহুন্দি জাল ও চরঘেরা জাল মনির ভোলা উপজেলা মৎস অফিসে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও তথ্য রয়েছে বেশ।

এসব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন এমন বিষয়ে মনির হোসেন বলেন আমার চাকরি টা আপনি করেন। আমি আগে কি করেছি তা দিয়ে আপনার দরকার কি? আমার বিরুদ্ধে কথা বলবে এমন মায়ের পুত কে?
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জেলা মৎস কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন আমি যোগদানের পর থেকেই মনিরের অপকর্মের বিষয়টি শুনে আসছি, তবে মনিরের নিজ মালিকানাধীন নিষিদ্ধ জালের সাবার রয়েছে এটা জানতাম না।
তবে মনির ভোলা সদর উপজেলা অফিসের অফিস সহায়ক তাকে অপারেট করেন উপজেলা মৎস কর্মকর্তা, মনিরের অপকর্মের বিষয়টি তদন্ত চলছে।

এদিকে অফিস সহায়ক মনিরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা নাজমুস সালেহীন বলেন মনিরের অপকর্মের বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল থেকে আগত ট্রলার এর নিকট থেকে নগদ টাকা গ্রহণের বিষয়টি আমাদের মৎস বিভাগ আমলে নিয়েই দ্রুততার সাথে তদন্ত করছেন। কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে না এ বিষয়ে মনিরকে জবাব দিতে আদেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/