Loading ...
  • Sun, 15 Mar 2026, 03:57 am
আবহাওয়া ব্যানার

শিক্ষক সংকটে ভুগছে বরগুনা সরকারি কলেজ, ৪৭ পদের মধ্যে ২৬ পদই শিক্ষক শূন্য!

নিউজ রুম / ১৮৬
শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩

মোঃ শাজনুস শরীফ বরগুনা :

চারদিকে নদ নদী এবং বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বরগুনা জেলা। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বরগুনা সরকারি কলেজ এই উপকূলীয় জেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

জেলার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪৭ কি পদের বিপরীতে মাত্র ২১ জন শিক্ষক আছেন।
বাংলা বিভাগ যেখানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন।

বাংলা বিভাগের মতো একই অবস্থা অন্যান্য বিভাগের, এর মধ্যে অর্থনীতি, ব্যাবস্থাপনা , পদার্থ বিজ্ঞান, প্রাণী বিভাগ এবং গণিত বিভাগে নেই কোন শিক্ষক।যার ফলে যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

এইচএসসি শিক্ষার্থীরা জানায় তাদের নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না প্রতিদিন রুটিনে ছয়টি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ টি।

কলেজ আফিস সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাড়েনি শিক্ষকের কোন নতুন পদ। পুরোনো জনবল দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠান। কয়েক যুগে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। বেড়েছে বিষয় ও উচ্চ শিক্ষার পরিধি। বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় নয় হাজার। উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও স্নাতক ( সম্মান), স্নাতকোত্তর ও ডিগ্রী(পাস কোর্স) সব মিলিয়ে ১৫ টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা বিভাগে চারটির মধ্যে তিনটি, ইংরেজি বিভাগ চারটির মধ্যে একটি, অর্থনীতি বিভাগে চারটির মধ্যে চারটি, ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিভাগে চারটির মধ্যে একটি, দর্শন বিভাগে পাঁচটির মধ্যে তিনটি, ব্যাবস্থাপনা বিভাগে চারটির মধ্যে চারটি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ চারটির মধ্যে দু’টি, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে চারটির মধ্যে একটি পদ শূন্য রয়েছে।

এই শিক্ষক সংকটের বিষয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানান, আমরা শিক্ষক শূন্য পদ পূরণ ও নতুন পদ সৃষ্টির তদবির করছি। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ( ডিজি ) কার্যলয় চাহিদা দেওয়া হয়েছে।”

বাংলা বিভাগের ‌বিভাগীয় প্রধান শিরীন সুলতানা জানান, শিক্ষক সংকটের কারনে দুজন খণ্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস নেওয়া হয়। দুজনের একজন বরগুনা সদর এর আইডিয়াল কলেজ এবং অন্যজন পাথরঘাটা সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ এর শিক্ষক ।
রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বলেন, মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে এতোসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো খুবই কঠিন। তাই দ্রুত শূন্য পদ গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

অর্থনীতি বিভাগের চারটি পদই শূন্য থাকার কারণে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রধান মঞ্জুরুল হাসান দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।

বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক ( সম্মান) এর শিক্ষার্থীরা জানান শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। ফলে পরিক্ষার ভালো প্রস্তুতি নেওয়া যায় না।


এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
tawhidit.top/